চৈত্রের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। রাস্তায় বেরোলেই ঘেমে একাকার। এই পরিস্থিতিতে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ও ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে অনেকেই ভরসা রাখছেন ডাবের পানিতে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—ডাবের পানি কি সত্যিই গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে? ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি যেখানে চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদ পরামর্শ দিয়েছেন।
ডাবের পানিতে কী আছে: পুষ্টিবিদ অরিজিৎ দে জানান, ডাবের পানিতে পটাসিয়াম, সোডিয়ামসহ নানা মিনারেল থাকে যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে খনিজ বেরিয়ে যায়, এই ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি কার্যকর। পেটের সমস্যা, হাইড্রেশন এবং গরমে ক্লান্তি দূর করতেও ডাবের পানি সহায়ক বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
কখন ডাবের পানি খাবেন: পুষ্টিবিদ রাখী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডাবের পানি খাওয়ার সঠিক সময় হলো ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের মাঝখানে অথবা ওয়ার্কআউটের পর। এতে শরীর পায় তাৎক্ষণিক এনার্জি, আবার ক্যালসিয়ামের ঘাটতিও কিছুটা পূরণ হয়।
ডাবের পানির বিকল্প: চিকিৎসক ডা. রুদ্রজিৎ পাল বলেন, ডাবের পানি উপকারী, তবে না খেলেও শরীরের কোনও বড় ক্ষতি হয় না। এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস, লবণ ও চিনি মিশিয়ে খেলেও শরীর পায় প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট। তাই অর্থনৈতিকভাবে যারা প্রতিদিন ডাব কিনতে পারছেন না, তাদের জন্য এটি কার্যকর বিকল্প।
ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে: ডাবের পানি অল্প পরিমাণে শর্করা ও সোডিয়াম থাকলেও মাঝেমধ্যে খেলে তেমন কোনও ক্ষতি হয় না বলে জানান ডা. পাল। তবে যাদের কিডনি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যকর বলেই যে অতিরিক্ত ডাবের পানি খাওয়া যাবে, এমনটা নয়। দিনে একটি ডাব যথেষ্ট, অতিরিক্ত নয়। সুস্থ থাকতে চাইলে পরিমিত খাবার ও পানীয় গ্রহণই সঠিক পথ। এছাড়াও তাজা ডাবের পানি গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে ঠিকই, তবে একে একমাত্র ভরসা ভাবা ঠিক নয়। সঠিক খাবার, পরিমাণমতো পানি ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললেই গরমেও সুস্থ থাকা সম্ভব।
খুলনা গেজেট/জেএম